
পিরেলির তিনটি সবচেয়ে নরম শুষ্ক কম্পাউন্ড নিয়ে হাঙ্গেরিতে পৌঁছেছে ফর্মুলা ১। চালকরা পাবেন C3 হার্ড, C4 মিডিয়াম ও C5 সফট টায়ার।
হাঙ্গারোরিংয়ের এক ও বারো নম্বর বাঁকেও নতুন অ্যাসফল্ট দেওয়া হয়েছে। শুরুর প্র্যাকটিসের ঠান্ডা দিনের পর warmer পরিস্থিতি প্রত্যাশিত।
প্রতিটি ফর্মুলা ১ চালকের জন্য টায়ার সেট
প্রতিটি চালক পাবেন দুই সেট হার্ড, তিন সেট মিডিয়াম ও আট সেট সফট। কোয়ালিফাইংয়ের চূড়ান্ত পর্বে উঠলে শেষ সেশনের জন্য আরও এক সেট সফট টায়ার পাবেন।
C3, C4 ও C5 নির্বাচন আগের বেশ কয়েকটি রেসের চেয়ে এক ধাপ নরম। পিরেলি তাদের বর্তমান রেঞ্জে তিনটি কম্পাউন্ডকে পাশাপাশি রেখেছে।
হার্ড টায়ারে সপ্তাহান্তজুড়ে সাদা চিহ্ন থাকে। মিডিয়ামে হলুদ, আর সফটে পরিচিত লাল চিহ্ন।
শুষ্ক রেসে দুটি ভিন্ন স্লিক কম্পাউন্ড লাগে। ভেজা আবহাওয়ার টায়ার ব্যবহার করলে স্পোর্টিং রেগুলেশন অনুযায়ী সেই শর্ত আর প্রযোজ্য হয় না।
গত মরসুমে হাঙ্গেরিতেও একই বরাদ্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। ওয়ান-স্টপ ও টু-স্টপ পথের মধ্যে রেস টাইমের পার্থক্য খুব কাছাকাছি ছিল বলে জানিয়েছিল পিরেলি।
হাঙ্গারোরিংয়ে চোদ্দটি বাঁক
হাঙ্গারোরিংয়ের দৈর্ঘ্য ৪.৩৮১ কিলোমিটার এবং এতে চোদ্দটি বাঁক আছে। রবিবারের গ্র্যান্ড প্রিক্স হবে সত্তর ল্যাপ ও ৩০৬.৬৩০ কিলোমিটার।
প্রতি ল্যাপের মধ্যভাগে দীর্ঘ ধারাবাহিক বাঁকের প্রাধান্য। বাঁকের মাঝে অল্প সময়ের বিরতি নিয়ে টায়ার চাপে থাকে।
মূল সোজা রাস্তা গিয়ে মেশে এক নম্বর বাঁকের সবচেয়ে ভারী ব্রেকিং অঞ্চলে। এরপর আরেকটি ছোট সোজা পেরিয়ে আসে তুলনামূলক সংকীর্ণ দুই নম্বর বাঁক।
সেক্টর টু-তে পরপর কয়েকটি দিক পরিবর্তন আছে। দ্রুততর ইউরোপীয় সার্কিটের তুলনায় গাড়িগুলো ফুল থ্রটলে অনেক কম সময় কাটায়।

সংকীর্ণ লেআউটের কারণে কোয়ালিফাইংয়ে প্রায়ই কয়েকটি গাড়ি কাছাকাছি চলে আসে। টাইমড রান শুরুর আগে ল্যাপ প্রস্তুতি তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নতুন অ্যাসফল্ট বদলে দেয় দুটি ব্রেকিং এলাকা
২০২৬-এর সপ্তাহান্তের আগে এক ও বারো নম্বর বাঁকে নতুন অ্যাসফল্ট পড়েছে। দুটি বাঁকই শুরু হয় উল্লেখযোগ্য ব্রেকিং ও স্পষ্ট দিক পরিবর্তন দিয়ে।
এক নম্বর বাঁক আসে সার্কিটের দীর্ঘতম ফুল-থ্রটল অংশের পর। প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক সেশনে এর পৃষ্ঠে ভারী ব্রেকিং চাপ পড়বে।
বারো নম্বর বাঁক ল্যাপের শেষদিকের একটি ধীর ডানদিকের বাঁক। দ্রুতগতির এগারো নম্বর বাঁকের এক্সিটের পর চালকরা এখানে আসেন।
শুক্রবারের প্র্যাকটিসে নতুন করা দুটি অংশে চালকরা প্রথম অর্থবহ ল্যাপ পাবেন। ব্রেকিং ট্রেস ও ল্যাপ টাইম সরাসরি গ্রিপ তুলনার সুযোগ দেবে।
| শুষ্ক কম্পাউন্ড | C3 হার্ড, C4 মিডিয়াম, C5 সফট |
|---|---|
| রেস সার্কিট | হাঙ্গারোরিং |
| নতুন অ্যাসফল্ট | টার্ন ১ ও ১২ |
| রেস দূরত্ব | ৭০ ল্যাপ, ৩০৬.৬৩০ কিমি |
বাকি অ্যাসফল্ট হাঙ্গারোরিংয়ের পুরোনো সারফেসই ধরে রেখেছে। এতে প্র্যাকটিসের সময় পুরোনো ও নতুন অংশের সরাসরি তুলনা করা যাবে।
সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা বাড়বে
শুক্রবারের পূর্বাভাসে বাতাসের তাপমাত্রা চোদ্দ থেকে ছাব্বিশ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে। ট্র্যাক রানিংয়ের সময় শুষ্ক সেশন ও উত্তর দিকের হাওয়া প্রত্যাশিত।
শনিবার বাতাস উষ্ণতর হবে, সর্বোচ্চ প্রায় ঊনত্রিশ ডিগ্রি। বিকেলে কোয়ালিফাইंग শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
রেস শুরুর আগে রোববার তাপমাত্রা বত্রিশ ডিগ্রি ছুঁতে পারে। পরে বৃষ্টির ঝুঁকি মূল প্রত্যাশিত গ্র্যান্ড প্রিক্স সময়ের বাইরে থাকবে।
পিরেলি শুক্রবার ট্র্যাকের তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকবে বলে আশা করছে। শনি ও রোববার সবচেয়ে গরম সময়ে সারফেস পঞ্চাশ ডিগ্রির কাছাকাছি হতে পারে।
উষ্ণতর আবহাওয়া প্র্যাকটিস ও রেসের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে দেয়। ইঞ্জিনিয়াররা কম্পাউন্ড, রান দৈর্ঘ্য ও ট্র্যাক তাপমাত্রা অনুযায়ী টায়ারের তথ্য সাজান।

পিরেলি রেসের পরে টায়ার পরীক্ষার পরিকল্পনা করেছে
গ্র্যান্ড প্রিক্সের পরেও পিরেলি টায়ার উন্নয়ন কাজের জন্য হাঙ্গারোরিংয়ে থাকবে। অ্যাস্টন মার্টিন, অডি ও অ্যালপাইন গাড়ি সরবরাহ করবে।
এই কর্মসূচিটি ভবিষ্যতের ফর্মুলা ১ টায়ার পণ্য নিয়ে। হাঙ্গেরিয়ান রেস সপ্তাহান্তের জন্য নির্বাচিত কম্পাউন্ডের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
দীর্ঘ কর্নারিং পিরেলিকে সম্পূর্ণ রানজুড়ে বারবার তথ্য দেয়। সার্কিটটি কয়েকটি ব্রেকিং লোড এবং বদলাতে থাকা কর্নার গতিও 제공한다।
রেস-সপ্তাহান্তের তথ্যে প্র্যাকটিস, কোয়ালিফাইং ও সত্তরটি প্রতিযোগিতামূলক ল্যাপ থাকে। পরের পরীক্ষাটি আলাদা কর্মসূচির অধীনে নিয়ন্ত্রিত মাইলেজ যোগ করে।
এই ইভেন্টটি মৌসুমের প্রথমার্ধ শেষ করে
ফর্মুলা ১-এর গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগে হাঙ্গেরি শেষ গ্র্যান্ড প্রিক্স। শুক্রবার ১৩:৩০ ও ১৭:০০টায় দুটি এক ঘণ্টার প্র্যাকটিস সেশন থাকে।
তৃতীয় প্র্যাকটিস শনিবার ১২:৩০টায় শুরু। একই বিকেলে স্থানীয় সময় ১৬:০০টায় কোয়ালিফাইং শুরু হবে।
রোববারের রেস ১৫:০০টায় শুরু এবং সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা চলবে। শুষ্ক অবস্থায় নির্ধারিত দূরত্ব সত্তর ল্যাপই থাকবে।
২০২৬ সালের রেসটি এই সার্কিটে চল্লিশতম হাঙ্গেরিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স। ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতিটি সংস্করণেই হাঙ্গারোরিং ব্যবহার করা হয়েছে।
লুইস হ্যামিল্টন আটটি গ্র্যান্ড প্রিক্স জয়ে সার্কিট রেকর্ড ধরে রেখেছেন। ম্যাকলারেন তেরোটি জয় নিয়ে কনস্ট্রাক্টরদের তালিকায় শীর্ষে।
ফার্নান্দো আলোনসো, এস্তেবান ওকন ও অস্কার পিয়াস্ত্রি এখানেই প্রথম ফর্মুলা ১ জয় পান। সেই জয়গুলো এসেছিল ২০০৩, ২০২১ ও ২০২৪ সালে।
কোনো মন্তব্য নেই